মো: মাহমুদ হাসান তোফায়েল ।। কত কিছুইনা ঘটছে আমাদের চারপাশে ? সবকিছুই যেন পরিবর্তন হয়ে গেছে সমান অধিকারের স্লোগানে। নারী অধিকার ও সমান অধিকারের পশ্চিমা আত্মাঘাতি স্লোগান ধ্বংস করে দিয়েছে দেশ সহ পুরো বিশ্বকে। যার ফলে পুরুষরা নারীদের ভীরে হারিয়ে যাচ্ছে কর্ম -পান থেকে। অনেকের কাছে কটু মনে হবে আমার এই আলোচনাটি। কিন্তু বাস্তবেই এমনটি হচ্ছে আমাদের দেশে। অথচ নারী অধিকার কি বা কাকে বলে তা আমাদের জানা উচিত।
নারী অধিকার কর্মীদের মতে সমান অধিকার নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানে যোগদান ইত্যাদি নারীর অধিকার। অথচ আজ অধিকাংশ নারী কর্মপানে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। তারা আজ ভোগ্যপণ্যের মত ব্যবহৃত হচ্ছে। খাদ্য পানীয়ের অভাবে জীবননাশের আশঙ্কা যত বেশি, পর্দার অভাবে সমাজ ও জাতির নির্মল, স্বচ্ছ -সুন্দর সাবলীল শান্তিপূর্ণ সচল প্রবাহ অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তার চাইতেও বেশি। কেননা যার খাদ্য বা পানির অভাব হয় সে শুধু নিজে মারা যায়, একজন পর্দাহীনা লজ্জাহীনা নারীর দরুন শুধু তার নিজেরই ধ্বংসকর্ম সাধিত হয় না বরং সাথে সাথে সে ধ্বংস করে সামাজিক পরিবেশ ১০ -২০ টি জীবন, সমাজ জীবনকে করে তুলি কুলুষিত, সমস্যা সংকুল ও দুর্বিষহ। আর সেই নিজেতো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লাঞ্ছিত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় অনেক আগেই। এটাই পর্দাহীনতার খোদায়ী অভিশাপ, ও ভয়াবহ পরিণতি।
আজ পর্দার বিধান অনুসরণ না করার কারণেই পত্র -পত্রিকা খুললেই দেখতে পাই নারীধর্ষণ, খুন, অপহরণ, এসিড নিক্ষেপ ইত্যাদি চরম দুঃখজনক ও লোমহর্ষক সংবাদ। এ পর্দাহীনতার কারণেই আজ সমাজের ঘরে ঘরে স্বামী স্ত্রীতে হচ্ছে মনোমালিন্য, ঘটছে ঝগড়া -কলহ, চলছে বিবাদ- বিসংবাদ। সমাজে চলছে যিনা -ব্যভিচার, লিপ্ত হচ্ছে যুবক-যুবতীরা অবৈধ কর্মকান্ডে, ছড়িয়ে পড়ছে পরকীয়া প্রেম, লিভ টুগেদার, বয়ফ্রেন্ড -গার্লফ্রেন্ড কালচার, অশ্লীল পত্র- পত্রিকা ইত্যাদি।
সুতরাং ইসলাম নারী জাতিকে পর্দার যে বিধান দিয়েছে, কোরআনে কারিম সুস্পষ্ট ভাষায় পর্দা পালনের যে নির্দেশ দিয়েছে, সায়্যিদুল মুরসালিন খাতামুন নাবিয়ীন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বেই যে পর্দা নীতি প্রচলন করেছেন এটা কি ববর্র প্রথা, মধ্যযুগীয় বিধান ! হতে পারি কি এটা প্রগতি ও উন্নতির পথের প্রতিবন্ধক বা অন্তরায় ? না কস্মিন কালেও না। আমি প্রগতির ধ্বজাধারী ঐ সব নারীবাদীদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই,” প্রগতির ” অর্থ যদি হয় স্বেচ্ছাচারিতা,উলঙ্গপনা, বেহায়াপনা।
প্রগতির উদ্দেশ্য যদি হয় ব্যভিচার -বহুগামীতা আর ফ্রি সেক্স বা জরায়ুর স্বাধীনতা ! তাহলে একথা অবশ্যই ঠিক যে, চিরসুন্দর চিরশাশ্বত পর্দার বিধান এ ধরনের তথাকথিত প্রগতির প্রধান অন্তরায়।
আমরা কি জানি? টানা ৮০০ বৎসর শাসন করার পরও কেন মুসলমানদের হাত থেকে ফসকে গিয়েছিল তদানীন্তন শিক্ষা -দীক্ষা, সভ্যতা- সংস্কৃতি, তাহযিব, – তামাদ্দুন,কুষ্টি কালচার, আর চোখ ধাঁধানো – মন মাতানো অপূর্ব সুন্দর নৈসর্গিক দৃশ্যের দেশ উন্দুলুস বা আজকের স্পেন ? কেন সুদীর্ঘ ৭০০ বছর জাঁকজমক এর সাথে সিংহাসন দখলে থাকার পরও উপমহাদেশের স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য অস্তমিত হয়েছিল ?
হ্যাঁ, কারণ আর কিছু নয়। এর মূল কারণ হচ্ছে ইসলামের চির দুশমন ঐ ইয়াহুদী খ্রিষ্টান হিন্দু ও বৌদ্ধ গোষ্ঠী ভালো করেই জানে যে, বোমা মেরে,গুলি চালিয়ে, পাশবিক নির্যাতন করে মুসলমানদের প্রাণের চেয়েও বেশি মূল্যবান ” ঈমান ” কে খতম করা যাবে না। এটম, হাইড্রোজেন বোম, আর মিসাইল ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে মুসলমানদের মুসলমানিত্ব ধ্বংস করা যাবে না।
বরং তারা বহু আলোচনা, পর্যালোচনা, গবেষণা,ও রিসার্চের পর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, মুসলমানদের ঈমান আমল মুসলমানিত্ব জিহাদী জযবা, দ্বীনি চেতনা ও আত্মাভিমানের জন্য বি-ধ্বংসী এটম আর সর্বনাশা মারণাস্ত্র হচ্ছে ওইসব পর্দাহীন অর্ধোলঙ্গ নারী, এ নারীদের দ্বারা মুসলমানদের ঈমান ও ইসলামকে তিলে তিলে নিঃশ্বেষ করে দিতে হবে।
আর তাই তো আজ ঐসব মগজবেচা, বুদ্ধিবেচা,তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা রুশ -আমেরিকার টাকা খেয়ে,দেশে এনজিও নামধারী কিছু কুচক্তী গ্রুপের মাধ্যমে আমাদের চিরসম্ভ্রান্ত পর্দানশীল,মা-বোনদেরকে বাড়ির জান্নাতি পরিবেশ থেকে টেনে হেচড়ে বের করে সুখের সোনার হরিণ পাইয়ে দেওয়ার রঙিন সঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে পর্দাহীন অর্ধনগ্ন করে, পেট পিঠ অনাবৃত করে রাস্তাঘাটে নামাচ্ছে!
তাদের মাধ্যমে স্লোগান দেয়াচ্ছেঃ আমার দেহ আমার মন +তাতে কেন অন্য জন ? কিসের ঘর কিসের বর ? সব হলো স্বার্থপর!!
অনেকেই ভাববে হয়তো আমি নারী বিদ্বেষী,না নারী বিদ্বেষী হতে যাবো কেন ? নারীরা আমাদের মাথার মুকুট । আমার জন্যই তো নারী হতে, নারীরা কখনো আমাদের মা – বোন- মেয়ে- স্ত্রী হয়ে থাকে। তারা তো সম্মানের পাত্র।
সুতরাং আমি নারী বিদ্বেষী নই৷
মূলত আমি খুবই মর্মাহত হয়ে লিখেছে আলোচনাটি। কারণ গত কিছুদিন যাবত আমার কিছু ভাই ব্রাদার চেষ্টা করেও চাকরি পাচ্ছে না।কারণ কোন প্রতিষ্ঠানই নারী ছাড়া নিচ্ছে না। হয়তো বাংলাদেশ ইসলামী শরিয়ানুযায়ী পরিচালিত হলে তাদেরকে বেকার থাকতে হতো না। যেখানে নারী পুরুষ ও সমান উভয়ের অধিকারই ঠিক থাকতো। কিন্তু এখন রক্ষা করতে গিয়ে অন্যজনের অধিকার নষ্ট হচ্ছে। মূলত মানব সৃষ্ট সংবিধান কখনো মানুষের কল্যাণকর হয় না। তা হয় কেবল স্বার্থান্বেষী মহলের সার্থরক্ষার কাজ। তাই আমাদেরকে আল্লাহ প্রদত্ত সংবিধানকেই গ্রহণ করতে হবে যেখানে সকলের অধিকারের কথা থাকবে। যেখানে সকলের অধিকারের কথা থাকবে।
কবির কণ্ঠে বলি-
“যদি মৃত্যুর ভয়ে কাপুরুষ হয়ে বসে থাক শুধু ঘরে,
লাখো শহীদের রক্তের ঋণ শোধিবে কেমন করে ?
জীবনের চেয়ে দীপ্ত মৃত্যু তখনই জানিব আমি,
তবে শহীদী রক্তে ভেসে যাবে মোরা সারা বদন খানি ”
তাই আসুন আমরা সকলে আওয়াজ তুলি, আমরা আমাদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠা করি, আমরা আল্লাহর সংবিধানকে দেশের বাস্তবায়ন করি।