শিরোনাম-
রাজশাহীতে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট কনফারেন্স অনুষ্ঠিত শৈলকুপায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল মোল্লাহাটে দৈনিক জনবাণীর ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কুকুটিয়া কাওমী বালিকা মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্নকারী ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাংগাবালী) আসনে এনসিপি-এর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন লায়ন ইঞ্জিনিয়ার সাইফল্লাহ মামুন। ফেনী-১ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে রাধানগর ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ নালিতাবাড়ীতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বি এন পির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কুয়েট থেকে গুগল: কুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সেতু কুমার বসাকের অনুপ্রেরণাদায়ক সাফল্যগাথা কুয়াকাটা – কলাপাড়া মহাসড়কে ৯০০ কেজি জাটকা জব্দ, ৫ সুপারভাইজারকে অর্থদণ্ড আলফাডাঙ্গায় জামায়াতের ছাত্র ও যুব প্রতিনিধির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন

কুরআন হাদীসের আলোকে কুরবানীর গোশত বণ্টননীতি

মুফতী শহীদুল ইসলাম,রায়পুরা ( নরসিংদী) উপজেলা প্রতিনিধি। / ৪৬২ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫

বাংলাদেশের কোনো কোনো এলাকায় কুরবানীর গোশত বণ্টনের একটি সমাজপ্রথা চালু আছে। এই সমাজপ্রথার নিয়ম ‎হল, এলাকার যারা কুরবানী করেন, তাদের কুরবানীর গোশতের তিন ভাগের একভাগ বাধ্যতামূলকভাবে সমাজে জমা ‎করতে হয়। পরবতীর্তে এই গোশত নির্দিষ্ট সমাজভুক্ত সকল ব্যক্তিবর্গ, যারা কুরবানী করেছেন এবং যারা কুরবানী ‎করেননি সবার মধ্যে বণ্টন করা হয়। এরূপ বণ্টননীতি কখনোই ইসলাম প্রদর্শিত বণ্টননীতি হতে পারেনা।

কেননা কুরবানীর গোশত বণ্টনের পদ্ধতিটি আমাদের দেশের কোনো কোনো এলাকায় প্রচলিত একটি সমাজপ্রথা। ‎সাধারণ দৃষ্টিতে এটি একটি ভালো উদ্যোগ মনে হতে পারে; কিন্তু কোনো সামাজিক প্রথা বা রীতি পালন করার জন্য তা ‎শরীয়তের দৃষ্টিতে শুদ্ধ ও আমলযোগ্য কি না— তাও নিশ্চিত হতে হয়। ভালো নিয়ত থাকলেও শরীয়ত সমর্থন করে না ‎অথবা ইসলামের নীতির সাথে মানানসই নয় এমন কোনো কাজ করা বা এমন কোনো রীতি অনুসরণ করার সুযোগ ‎নেই।
প্রশ্নোক্ত সমাজপ্রথাটিতে উদ্দেশ্য ভালো হলেও যে পদ্ধতিতে তা করা হয় এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে মৌলিক কিছু আপত্তি ‎রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল, সামাজিক এ প্রথার কারণে সকলেই তার কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজের ‎লোকদের হাতে দিতে বাধ্য থাকে। এবং এর বিলি-বণ্টন ও গ্রহিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু সমাজপতিদেরই হাত থাকে। ‎গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা শরীয়তসম্মত নয়। কেননা শরীয়তে কুরবানী ও গোশত বণ্টন একান্তই ‎কুরবানীদাতার নিজস্ব কাজ।
ঈদের দিন সম্মিলিতভাবে জামাতে নামায আদায় করতে বলা হলেও কুরবানীর জন্য কত মূল্যের পশু কিনবে, সে পশু ‎কোথায় জবাই করবে, গোশত কীভাবে বণ্টন করবে—এ বিষয়গুলো কুরবানীদাতার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ‎শরীয়তে কুরবানীর কিছু গোশত সদকা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজন ও গরীব-দুঃখীদের কুরবানীর ‎গোশত দিতে তাকিদও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা কুরবানীদাতার উপর অপরিহার্য করা হয়নি। বরং কুরবানীদাতা কী ‎পরিমাণ গোশত নিজে রাখবে, কী পরিমাণ সদকা করবে এবং কাকে কাকে বিলি করবে আর কী পরিমাণ আগামীর ‎জন্য সংরক্ষণ করবে— এগুলো কুরবানীদাতার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার এবং ব্যক্তিগতভাবে করার কাজ। এটিকে ‎সামাজিক নিয়মে নিয়ে আসা ঠিক নয়।
তাই শরীয়তের মাসআলা জানা না থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোশত বণ্টনের প্রশ্নোক্ত যে পদ্ধতি প্রচলিত ‎হয়েছে, তা পরিহারযোগ্য। নিম্নে সংক্ষেপে প্রশ্নোক্ত প্রথাটির কিছু ক্ষতির দিক উল্লেখ করা হল—‎
১. অনেক কুরবানীদাতার পরিবারের সদস্য-সংখ্যা বেশি হওয়ায় অথবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নিজ পরিবারের ‎জন্য বেশি গোশত রাখার প্রয়োজন হয়; ফলে সে পরিবারের জন্য বেশি গোশত রাখতে চায়। আবার অনেকে তার ‎কোনো দরিদ্র আত্মীয়কে কুরবানীর গোশত দিতে চায়। কিন্তু সামাজিক এই বাধ্যবাধকতার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ‎সামাজিক রীতি অনুযায়ী কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজে দিতে বাধ্য হয়। অথচ হাদীস শরীফে ইরশাদ ‎হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—‎
إِنَّهُ لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ‎.‎
কোনো মুসলমানের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল নয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২০৬৯৫)‎
২. প্রশ্নোক্ত প্রথায় গোশতদাতা তার দানের অংশটি কাকে দেবে সে স্বাধীনতা হারায়। হয়তো সে তার নিকটাত্মীয় অথবা ‎পরিচিত কাউকে একটু বেশি পরিমাণে দিত, কিন্তু এক্ষেত্রে তার জন্য এমনটি করার সুযোগ থাকে না।
৩. অনেক মানুষ এমন আছেন, যারা প্রত্যেকের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে চান না। আর শরীয়তও কাউকে সকলের ‎হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য করেনি। কিন্তু সামাজিক এই রীতির কারণে গোশত গ্রহণকারী প্রত্যেকেই অন্য ‎সকলের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। বলাবাহুল্য এ ধরনের ঐচ্ছিক বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ‎মোটেই উচিত নয়।
৪. এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপের আরেকটি ক্ষতির দিক হল, সমাজের কিছু মানুষ এমন থাকে, যাদের আয় ‎রোজগার হারাম পন্থায় হয়। সেক্ষেত্রে জেনে বুঝে তাদের কুরবানীর গোশত সমাজের সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া ‎হয়। অথচ হারাম উপার্জনের মাধ্যমে কুরবানীকৃত পশুর গোশত খাওয়া জায়েয নয়।
মোটকথা, শরীয়তের শিক্ষা মোতাবেক প্রত্যেককে তার কুরবানীর অংশ দান করার বিষয়ে স্বাধীন রাখতে হবে। প্রশ্নোক্ত ‎পদ্ধতিতে বা অন্য কোনোভাবে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যাবে না। কুরবানীদাতা নিজ দায়িত্ব ও বিবেচনা মতো যাকে ‎যে পরিমাণ হাদিয়া করতে চায় করবে এবং গরীব-মিসকীনকে যে পরিমাণ সদকা করতে চায় করবে। রাসূলুল্লাহ ‎সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে শত শত বছর যাবৎ এ পদ্ধতিই চলমান আছে। এই পদ্ধতিই অবলম্বন ‎করা জরুরি। শরীয়ত যা চালু করতে বলেনি এমন কোনো প্রথা চালু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪.বড় একটা বিষয় সেটা হচ্ছে কুরবানির পশুর গোশতের মালিক শরীয়তের দৃষ্টিতে কুরবানি দাতা আর যখন সে পশুর গোশতের ব্যাপারে সামাজিক গণ্যমান্যরা নিজস্ব পদ্ধতি অবলম্বন করে কুরবানি দাতার উপর প্রেশার প্রয়োগ করে তখন পদ্ধতিটা যেন এমন বুঝায় একজনের মাল অন্যজনরা চক্ষু লজ্জা, কটুকথা ও সামাজিক বলয় দিয়ে হস্তগত করল।

৬.ইসলাম যেখানে যেভাবে যে বিধান দেওয়ার তা পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছে এখন যখন কিছু মানুষ সামাজিক বলয় তৈয়ার করে সমাজবদ্ধ মানুষদের কাছ থেকে ইচ্ছা বা অনিচ্ছা সত্ত্বেও গোশত একত্রিত করে নিজেরা মানবিকতার দোহাই দিয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে গোশত বন্টন করছে তারা যেন একথা বুঝাচ্ছে যে শরীয়তের সমস্ত বিধান সমস্ত জায়গায় মানবিক নয়!
আপনি বলবেন কুরবানী গোশত খাওয়ার জন্য নয় তার উত্তরে আমি বলব কুরবানির উৎপত্তি অপরের গোশত অন্যকে দিয়ে দেওয়ার জন্যও নয় বরং কুরবানী করতে হবে আল্লাহর জন্য এরপর রাসুল সা:প্রবর্তিত পদ্ধতিতে বন্টন করতে হবে।
৭. এমন পদ্ধতি অবলম্বনের কারণে দেখা যায় কৃপন মাল ওয়ালারা কুরবানী না দেওয়ায় আগ্রহী হয় প্রথমত নিজের গোশত সামাজিকতার কারণে অপরকে দিতে বাধ্য হতে হয় আর দ্বিতীয়ত কুরবানী না করলেও গোশতের বন্টন পাওয়া যায়।

মোটকথা এধরনের প্রচলন খাইরুল কুরুনে পাওয়া যায় না। রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলমানের মাল তার সন্তুষ্টি ছাড়া গ্রহণ করা হালাল নয়।
‎সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭২; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ‎৬/৪৮২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৭৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০; রদ্দুল মুহতার ‎৬/৩২৮
লেখক,মুফতী শহীদুল্লাহ শেরপুরী
জামিয়া শহীদিয়া আরাবিয়া,হাসনাবাদ,নরসিংদী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category