শিরোনাম-
মোল্লাহাটে দৈনিক জনবাণীর ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কুকুটিয়া কাওমী বালিকা মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্নকারী ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাংগাবালী) আসনে এনসিপি-এর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন লায়ন ইঞ্জিনিয়ার সাইফল্লাহ মামুন। ফেনী-১ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে রাধানগর ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ নালিতাবাড়ীতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বি এন পির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কুয়েট থেকে গুগল: কুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সেতু কুমার বসাকের অনুপ্রেরণাদায়ক সাফল্যগাথা কুয়াকাটা – কলাপাড়া মহাসড়কে ৯০০ কেজি জাটকা জব্দ, ৫ সুপারভাইজারকে অর্থদণ্ড আলফাডাঙ্গায় জামায়াতের ছাত্র ও যুব প্রতিনিধির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়ায় জামায়াতের প্রার্থীর সমর্থনে বিপুল সংখ্যাক মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারেক রহমানের জন্মদিনে মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের ব্যতিক্রমী আয়োজন
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

❝ ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলার। ❞

ওমায়ের আহমেদ শাওন,কলামিস্ট। / ১৫৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫

মানুষ যাদের ওপর আপন বিশ্বাস স্থাপন করে তাদেরকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সন্মান পরিপূর্ণ ভাবে দিয়ে থাকে। কিন্তু সেই ভালোবাসার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যক্তিগণ নীরবে বিশ্বাসঘাতকতা করে; আমরা তা সহজে বুঝতে পারিনা। কিংবা বুঝতে পারলেও জীবন মরণের সন্ধিঃক্ষণে তাদের ওপরই শেষ বিশ্বাস রাখি-। তাদের আন্তরিক কাজের ওপর আস্থাও বহুগুণ। বাস্তবিক ক্ষেত্রে কখনো সেটা চরম ভুলও প্রমাণিত হয়। প্রত্যেক পেশার মাধ্যমে জীবন-জীবিকার তাগিদ থাকলেও কয়েকটি পেশাকে মহান মনে করি। যেমন- কৃষক, ডাক্তার, পুলিশ, আইনজীবী, সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা প্রভৃতি। আমাদের সবচেয়ে বেশি ভরসা ও বিশ্বাস ডাক্তারগণের প্রতি। সেই উচ্চ শিক্ষিত ডাক্তারগণ আমাদের সমাজের খেটে খাওয়া মানুষদের ওপর কৌশলে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করতেও দ্বিধা করেনা। বিপদে পড়ে কিংবা জীবন বাঁচাতে যখন দ্বারস্থ হয় সেই সুযোগ মতো তারা অহেতুক বিভিন্ন টেস্ট, নির্ধারিত স্থানে টেস্ট, প্রেসক্রিপশনে অতিরিক্ত মেডিসিন লেখা, বিনা কারণে হয়রানি, পর্যাপ্ত অর্থ না পেলে ভুল ও জটিল তথ্য দেওয়া, নারীদের প্রেগন্যান্সির সময় থেকে সিজার করতে বাধ্য করার জন্য বিভিন্ন শঙ্কা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপারেশনের বিল বেশী করা সহ যাবতীয় হারাম কাজে তারা লিপ্ত হয়। যদি বলা হয়, মানুষের রোগ-বালাই নাহলে ডাক্তাররা খাবে কী ? বিষয়টা বেমানান। কারণ, রোগ-বালাই জীবজগৎ এর অপরিহার্য বাস্তবতা। যদি বলা হয়, ডাক্তাররা মানুষের রোগ-বালাই বৃদ্ধির জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট নিয়মিত প্রার্থনা করেন; সেটি বলাও সমীচীন হবে না। কারণ, মানুষের বিপদ-আপদে ডাক্তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করেন।
মানবজীবনে নীতি-নৈতিকতার ভূমিকা যেমন অপরিসীম। তেমনি আদর্শিক ডাক্তারদের সেবা গ্রহণও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। শারিরীক ও মানসিক আশঙ্কায় ডাক্তারদের নির্দেশনা, পরামর্শ ও সেবা আমাদের একমাত্র পাথেয়।

তবে মনে রাখতে হবে, সব ডাক্তাররা ডাক্তার নন। সার্টিফিকেট সবার থাকে। কিন্তু আদর্শিক ডাক্তার হতে পারাটা প্রকৃত যোগ্যতার পরিচয় বহন করে। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে যে, বাহিরের কান্ট্রিগুলোতে এদেশের ডাক্তারদের ডিগ্রী ও সার্টিফিকেট নিয়েও স্পষ্ট সন্দেহ পোষণ করে। এক্ষেত্রে অর্থ দিয়ে যারা সার্টিফিকেট কিনে না তাদের বিষয়টি ভিন্ন। অনেক এমবিবিএস ডাক্তারগণ একজন ব্যক্তি হয়েই অসংখ্য মেডিক্যাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে বসেন কিভাবে ?
একই ডাক্তারের নামে বহু জায়গায় সাইনবোর্ড ! অথচ সেসব জায়গায় দুয়েক বছরেও যান না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাহলে বলাই যায়, এটি সেবা দেওয়ার নামে নিখাদ কমিশন বাণিজ্য। এটি চুরির চেয়েও ঘৃণ্য অপরাধ। তারপরও আমরা ডাক্তারদের ফেরেস্তা হিসাবে বিবেচনা করি-। সে আস্থাকে পূঁজি করে তারা আরও ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করার সুযোগ পায়।

দীর্ঘকাল ধরে দেশের সাধারণ জনগণ প্রতারিত হয়ে আসছে। তবুও ডাক্তারদের বিবেক জাগ্রত হয়না, সততা ফিরে আসে না তাদের মহান পেশায়। আমরা ডাক্তারদের ডাক্তারই ভাবি, কখনো মানুষ ভাবতে পারিনা। মানুষ ও ডাক্তার যেন আলাদা বিপরীত কিছু। এই মানবিক অবক্ষয় রীতিমতো বিষিয়ে তুলছে সমাজ ও দেশকে। অসৎ রাজনৈতিক নেতাদের মতো ডাক্তাররা রাতারাতি বিলাসিতার জীবন-যাপন শুরু করে। বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস, ক্লিনিক, হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মাসী ইত্যাদি সব জায়গায় তাদের কমিশনের রমরমা ব্যবসা চলছেই।
তারপরও তারা নিষ্পাপ। তাদের কোন অপরাধ নেই, তারা অপরাধ করেন না। মেডিক্যালি জেনোসাইড ঘটালেও তাদের কখনো বিচার হয়না। তারাই আমাদের বিপদের পরম বন্ধু।
কেবলমাত্র টাইটেল ও ডিগ্রী লাগিয়ে নিজের নামের প্রচার করাতে ডাক্তার বা চিকিৎসক হিসাবে স্বার্থকতা নিশ্চিত হয়না। মানবিক চেতনা ও পেশায় সততার সহিত আন্তরিকতা না থাকলে তারা কখনোই প্রকৃত ডাক্তার নয়।
মৎস পোনার মতো ডাক্তার-নার্সদের যুগে যারা নিজেদেরকে সাধারণ মানুষের জন্য একটু আন্তরিক এবং মানবিক হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করে তাদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা ও অন্তকরণ থেকে ভালোবাসা।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category