পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সুপার সাইক্লোন সিডরের ১৮ বছর অতিবাহিত হলেও ভয়াবহ সেই পরিস্থিতির কথা মনে করে আজও আৎঁকে ওঠেন অনিল চন্দ্র ডাকুয়া (৭২) নামে এক চুন বিক্রেতা।
তাঁর বাড়ী কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে। পৈত্তিক পেশা হিসেবে তিনিও বেছে নিয়েছেন চুন বিক্রি।
তবে এ চুন তৈরীতে প্রয়োজন ঝিনুক। প্রতিবছর এ ঝিনুক সংগ্রহ করতে যান সুন্দরবন এলাকায়।২০০৭ সালের ১২ নভেম্বর অনিল চন্দ্র ডাকুয়া এক মাসের ভাড়ায় একটি নৌকা সহ তার অপর তিনজন সহযোগীদের নিয়ে সুন্দরবনের কটকা এলাকায় যান ঝিনুক সংগ্রহ করতে ।
কটকা বনবিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে দু’দিন ঝিনুক কুড়ানোর পর ১৫ নভেম্বর সকাল থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। সময় যতই অতিবাহিত হচ্ছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি ততই খারাপ হচ্ছে।
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে শুরু করেছে বাতাসের গতিবেগ। রাত প্রায় ৯ টা হঠাৎ ১৫/২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস। তখন ঢেউয়ের তীব্রতায় থরহরি কম্পন শুরু হয় অনিলের।
নৌকাটিকে একটি রশি দিয়ে কোনরকম গাছের ডালের সাথে বেঁধে ফেলেন। চারিদিকে পশু পাখির বাঁচার ক্রন্দন। অনিল কোনমতে একটি ডালের সাথে রশি বেঁধে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রান ভিক্ষা চেয়ে বেঁচে যান কোন মতে।
এ ঘটনা ১৮ বছর অতিক্রম হলেও অনিল আর যানটি ঝিনুক কুড়াতে সুন্দরবনে।
তবে এ দিনটি উপকূলীয় এলাকার মানুষের একটি স্মরনীয় দিন। পটুয়াখালী জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এ জেলায় সিডরে ৪৪৬ জন মানুষ মারা গেছেন এবং ২১১ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। ক্ষতির শিকার হয়েছে উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ সহ ফসলী জমি, গবাদি পশুর।এ ঘটনার দীর্ঘ ১৮ বছর অতিবাহিত হলে এখনো অনেক পরিবার ঘুরে দাড়াঁতে পারেনি। এ দিনটির কথা স্মরন করে উপকূলীয় এলাকার স্বজনহারা মানুষ মোতবাতি প্রজ্বলন, মিলাদ মাহফিল, দোয়া, প্রার্থনা করে থাকেন।