শিরোনাম-
রাজশাহীতে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট কনফারেন্স অনুষ্ঠিত শৈলকুপায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল মোল্লাহাটে দৈনিক জনবাণীর ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কুকুটিয়া কাওমী বালিকা মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্নকারী ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাংগাবালী) আসনে এনসিপি-এর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন লায়ন ইঞ্জিনিয়ার সাইফল্লাহ মামুন। ফেনী-১ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে রাধানগর ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ নালিতাবাড়ীতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বি এন পির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কুয়েট থেকে গুগল: কুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সেতু কুমার বসাকের অনুপ্রেরণাদায়ক সাফল্যগাথা কুয়াকাটা – কলাপাড়া মহাসড়কে ৯০০ কেজি জাটকা জব্দ, ৫ সুপারভাইজারকে অর্থদণ্ড আলফাডাঙ্গায় জামায়াতের ছাত্র ও যুব প্রতিনিধির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন

কলাপাড়ায় এক মনিকা সাহা’র আক্ষেপ।কমে যাচ্ছে হাতে ভাজা মুড়ির কদর।।

সাইফুল ইসলাম,উপজেলা প্রতিনিধি,কলাপাড়া,পটুয়াখালী। / ১০০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হাতে ভাজা মুড়ির কদর দিন দিন কমে যাচ্ছে। এত খাটুনী খেটে তলায় কোন লাভ দেখা যাচ্ছে না। এক হচ্ছে চুলার আগুনের দহন, ধান ক্রয়,চাল তৈরী সব মিলিয়ে হাড় ভাঙ্গা খাটুনী আর ভালো লাগে না। পরিশ্রম করে যদি লাভই না হয়, তাহলে সে খাটুনী কে-ই বা খাটে। কথা গুলো বললেন,কলাপাড়া পৌরশহরের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের বাদুরতলী এলাকার বাসিন্দা মনিকা রানী সাহা।

তিনি বলেন,পৈত্রিক সূত্রের অভিজ্ঞতা থেকে মুড়ি ভাজা এ পেশায় আসা। পরবর্তীতে স্বামী ভীম সাহার সংসারে এসে জেঁকে ধরেছেন এ পেশাটি। শ্বশুর-শ্বাশুড়ীও তার কাজে কিছুটা সহায়তা করেন। স্বামী ভীম সাহা তাদের তৈরী করা মুড়ি বস্তাবন্দী করে উপজেলার বিভিন্ন হাটে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন। ধান ক্রয় এবং প্রক্রিয়াজাত করতে যে পরিশ্রম তাতে কেজি প্রতি ১০ টাকা টিকানো মুশকিল হয়ে পড়ে।

বর্তমান নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের যে চরামূল্য, তাতে ছয় জনের সংসারে ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ এবং সংসারের অন্যান্য ব্যয় বহন করে জীবন টেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে লোকসান গুনে অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন।এ পেশাটি।

মনিকা সাহার স্বামী ভীম সাহা বলেন’ পূর্ব পুরুষদের শেখানো কাজ পেশা হিসেবে নিয়ে কোন মতে প্রান বাঁচাচ্ছি। হাট থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ধান কিনে সিদ্ধ করে রোদে শুকিয়ে মেশিনের সাহায্যে চাল করতে অনেকটা খরচ, তার মধ্যে মুড়ি তৈরী করতে রয়েছে ঘাটতি। সব মিলিয়ে কেজিতে ১০ টাকা টেকানো মুশকিল হয়ে পড়ে।

তিনি আরো বলেন’ বর্তমানে যন্ত্রচালিত মুড়ির মূল্য কম থাকায় বিভিন্ন হাট-বাজারে এর চাহিদা বেশী। অপরদিকে,হাতে ভাজা মুড়ির স্বাদ তুলনামূলক বেশী হলেও কেজি প্রতি ১০ টাকা বেশী হওয়ায় মুড়ির পাইকারী ব্যবসায়ীরা যন্ত্রচালিত মুড়ি বেশী কিনছেন এবং বিক্রি করছেনও বেশী। ফলে ধীরে ধীরে হাতে ভাজা মুড়ি ব্যবসায়ীরা মার খেয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যবসায়।

ভীম সাহার বাবা মনোরঞ্জন সাহা বলেন’ তিনি তাঁর বাবার কাছ থেকে এ পেশাটি আয়ত্ব করেছেন। বংশপরম্পরায় তাদের এ পেশা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কোথায় যাবো,কি করবো, এক রকম খুব কষ্টে দিনাতিপাত হচ্ছে।

“নাগরিক উদ্যেগ” কলাপাড়ার আহবায়ক কমরেড নাসির তালুকদার বলেন’ মুড়ি ভাজা এটা একটা শিল্প। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা উচিৎ। সমাজ সেবক মিজানুর রহমান টুটু বিশ্বাস বলেন’ মেশিনে তৈরী মুড়ির স্বাদের তুলনায় হাতে ভাজা মুড়ির স্বাদ অনেক বেশী। সংশ্লিষ্টদের বাঁচিয়ে রাখা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category